নিউইর্য়কে আইসএর সাম্প্রতিক তৎপরতা। কিছু পরামর্শ ও সতর্কতা।

আমেরিকান বাংলা। ২৬ শে মার্চ ২০২৬, রবিবার।

নিউইর্য়ক সিটিতে বিভিন্ন জায়গায় ICE ঘুরাঘুরি করছে। গতকাল গ্রীণকার্ডধারী একজন ৬০ বছরের মুরুব্বিকে জ‍্যামাইকা থেকে ICE উঠিয়ে নিয়ে গেছিলো কারণ উনার সাথে গ্রীণকার্ড ছিলো না। আইস সামনে এলে ভয় পাবেন না। নার্ভাস হবেন না। আতঙ্ক নয়, এখন সবচেয়ে বেশি দরকার সঠিক তথ্য, ঠান্ডা মাথা, আর প্রস্তুতি।

যাদের বৈধ স্ট্যাটাস আছে, বিশেষ করে গ্রীন কার্ড আছে, তাদের অযথা প্যানিক করার দরকার নেই। কিন্তু আইন না জানা, ভুল কথা বলা, ভুল কাগজ দেখানো, বা নার্ভাস হয়ে দৌড় দেওয়া অনেক সময় অযথা ঝামেলা ডেকে আনে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, গুজব নয়, প্রস্তুতি নিন। নিজের কাগজ ঠিক রাখুন, নিজের অধিকার জানুন, আর পরিবারের জন্য আগে থেকেই একটা এমার্জেন্সি প্ল্যান ঠিক করে রাখুন।

সতর্কতামূলক নোটিশ

১. গ্রীন কার্ডধারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী নন-সিটিজেন, যার মধ্যে লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্টরাও আছেন, তাদের এলিয়েন রেজিস্ট্রেশন ডকুমেন্ট সঙ্গে রাখার বাধ্যবাধকতা আছে।

এর মানে খুব সোজা:

অরিজিনাল গ্রীন কার্ড সঙ্গে রাখুন।

ফটোকপি ব্যাকআপ হতে পারে, কিন্তু অরিজিনালের বিকল্প না।

২. বাইরে বের হলে সঙ্গে যা রাখা ভালো

• অরিজিনাল গ্রীন কার্ড

• স্টেট আইডি বা ড্রাইভিং লাইসেন্স

• আইনজীবীর নাম ও ফোন নাম্বার

• একজন বিশ্বস্ত আত্মীয়ের ফোন নাম্বার

• প্রয়োজনে অন্য ইমিগ্রেশন ডকুমেন্টের ফটোকপি

• পাসপোর্টের ফটোকপি বা সিকিউর ডিজিটাল কপি

৩. যা করবেন না

• দৌড়াবেন না

• তর্কে জড়াবেন না

• মিথ্যা বলবেন না

• ফেইক ডকুমেন্ট দেখাবেন না

• না বুঝে কোনো পেপার-এ সাইন করবেন না

বৈধ কাগজ না থাকলে –

৪। রাস্তা, সাবওয়ে, দোকান বা পাবলিক প্লেস-এ আইসিই থামালে কী করবেন।

• শান্ত থাকুন

• হাত দৃশ্যমান রাখুন

• অযথা বেশি কথা বলবেন না

• চাইলে চুপ থাকার অধিকার ব্যবহার করতে পারেন

• চাইলে বলতে পারেন: “আই অ্যাম এক্সারসাইজিং মাই রাইট টু রিমেইন সাইলেন্ট।”

• সার্চ-এ কনসেন্ট না দিলে বলতে পারেন: “আই ডু নট কনসেন্ট টু আ সার্চ।”

• আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে চাইতে পারেন

• দরকার হলে ইন্টারপ্রেটার চাইতে পারেন

৫. বাড়িতে আইসিই এলে কী করবেন

• সঙ্গে সঙ্গে দরজা খুলবেন না

• দরজার আড়াল থেকে জিজ্ঞেস করুন তারা কারা

• ব্যাজ বা আইডি দেখতে চান

• জিজ্ঞেস করুন জুডিশিয়াল ওয়ারেন্ট আছে কি না

• থাকলে দরজার নিচ দিয়ে দিতে বা জানালায় দেখাতে বলুন

• জাজ-এর সিগনেচার আছে কি না দেখুন

জুডিশিয়াল ওয়ারেন্ট ছাড়া সাধারণভাবে তাদের ভেতরে ঢুকতে দিতে বাধ্য নন

৬. কর্মস্থলে কী জানা জরুরি

আইসিই অনেক সময় ওয়ার্কপ্লেস-এর পাবলিক এরিয়া-তে ঢুকতে পারে।

কিন্তু প্রাইভেট এমপ্লয়ি-অনলি এরিয়া-তে সাধারণভাবে জুডিশিয়াল ওয়ারেন্ট বা এমপ্লয়ার পারমিশন ছাড়া ঢুকতে পারে না।

তাই বিজনেস ওনার, স্টোর ম্যানেজার, মসজিদ অফিস, রেস্টুরেন্ট অপারেটর, কমিউনিটি সেন্টার স্টাফ সবার এটা জানা দরকার।

৭. বাড়িতে আগে থেকে যা গুছিয়ে রাখবেন

• পাসপোর্ট কপি

• গ্রীন কার্ডের ফ্রন্ট-ব্যাক কপি

• সন্তানের বার্থ সার্টিফিকেট কপি

• বিয়ে বা ডিভোর্স ডকুমেন্ট কপি

• অ্যাপ্রুভাল নোটিস, কোর্ট নোটিস, রিসিট

• আইনজীবী ও আত্মীয়দের কনট্যাক্ট লিস্ট

৮. ফোনে যা রাখবেন

• ডকুমেন্ট স্ক্যান

• লইয়ার কনট্যাক্ট

• ট্রাস্টেড ফ্যামিলি গ্রুপ চ্যাট

• মেডিক্যাল অ্যালার্ট নোট

তবে শুধু ফোনের ওপর ভরসা করবেন না। পেপার ব্যাকআপও রাখুন।

৯. সাহায্য কোথায় পাবেন

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র’স অফিস অব ইমিগ্র্যান্ট অ্যাফেয়ার্স-এর মাধ্যমে ফ্রি, কনফিডেনশিয়াল, সিটি-ফান্ডেড ইমিগ্রেশন লিগ্যাল হেল্প পাওয়া যায়।

হটলাইন: 800-354-0365

অথবা 311-এ কল করে বলুন: ইমিগ্রেশন লিগ্যাল

শেষ কথা

ভয় না পেয়ে প্রস্তুত থাকুন।

গুজব ছড়াবেন না।

নিজের অরিজিনাল গ্রীন কার্ড সঙ্গে রাখুন।

পরিবারের জন্য এমার্জেন্সি প্ল্যান তৈরি করুন।

কেউ সমস্যায় পড়লে ভিড় করে চিৎকার না করে দ্রুত লিগ্যাল হেল্প নিন।

Leave a Reply

Discover more from American Bangla

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading